বাংলা ও ইংরেজীতে চাকরির রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম নমুনাসহ

আপনি কি আপনার চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে চান বা রিজাইন দিতে চান? তাই বাংলা ও ইংরেজীতে চাকরির রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম নমুনাসহ আপনার পদত্যাগ বা রিজাইনের কারণ বিবরণসহ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করার জন্য একটি পদত্যাগপত্র লেখা একটি ভাল দিক কারন এতে করে কর্মক্ষেত্রে আপনার পেশাদরিত্ব প্রকাশ পাবে।

কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেন না একটি পদত্যাগপত্র কি, এবং কেন আপনাকে একটি পদত্যাগপত্র লিখতে হবে? একটি পদত্যাগপত্রে আপনার কি কি উল্ল্যেখ করা উচিত এবং কি উল্ল্যেখ করা উচিত নয় তা জানতে হবে।

রিজাইন লেটার কি?

রিজাইন লেটার বা পদত্যাগপত্র হল একটি নথি যা আপনার নিয়োগকর্তাকে জানায় যে আপনি আপনার চাকরি ছেড়ে যাচ্ছেন। এটি আপনার বর্তমান কর্মসংস্থান থেকে আপনার যাওয়াকে আনুষ্ঠানিক করে তোলে এবং এই চিঠিটি আপনার চাকরি থেকে যাওয়া সম্পর্কে বিস্তারিত কারনসহ লেখা থাকে তাকেই রিজাইন লেটার বলে।

রিজাইন লেটার কেন প্রয়োজন?

আপনাকে রিজাইন লেটার বা পদত্যাগপত্র লিখতে হবে কারণ এটি লেখা আপনার পেশাদারিত্বকে ফুটিয়ে তুলবে। আপনি যে কাজই করুন না কেন একটি পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে আপনার বসকে নোটিশ দেয় যে আপনি চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন এবং আপনার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অন্য কাউকে নিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও রিজাইন লেটার দেওয়ার কারনে আইনি ঝামেলা থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

রিজাইন লেটার কেন লিখতে হয় ও জমা দিতে হয়?

আপনি ইমেল বা ফোন করেও পদত্যাগ করতে পারেন তবে একটি আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র লেখা পেশাধারিত্বের ছাপ তুলে ধরে। রিজাইন লেটারে আপনি চলে যাচ্ছেন এবং আপনার কাজের শেষ দিন কখন হবে তার চেয়ে বেশি কিছু বলার দরকার নেই৷

এছাড়াও রিজাইন লেটার জমা দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠনের কাছে আপনার কোন ধরনের দেনা-পাওনা থাকলে তাও উল্ল্যেখ করে দেওয়া উচিত।

রিজাইন লেটার দিলে কি কোন সুবিধা আছে?

দেখুন হুট করে কাউকে না  জানিয়ে চাকরি ছেড়ে দিলে আপনি আইনি বাধার মুখে পড়তে পারেন কারন এক্ষেত্রে আপনার বস বা নিয়োগকর্তা আপনার সম্পর্কে জানলো না বা আপনি চলে যাওয়ার করনে আপনার স্থানে নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন কারন তাদেরকে আপনি জানাননি তাই রিজাইন লেটার দেওয়ার মাধ্যমে আপনি তাদের জানিয়ে দিয়েছেন এতে করে কোন ধরনের বাধা বা আইনি প্রক্রিয়ার সম্মুখিন আপনাকে হতে হবে না।

রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম?

আপনি যখন আপনার চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন, তখন সুন্দরভাবে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে রিজাইন লেটার লেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাইহোক, আপনাকে রিজাইন লেটার এ দীর্ঘ কোন ধরনের লেখা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে না। আপনার রিজাইন লেটার এ যা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে তা সম্পর্কে এখানে কিছু ধারনা দেওয়া হলো।

  • আপনার পদত্যাগের কারন: আপনার বস বা নিয়োগকর্তাকে একটি আনুষ্ঠানিক রিজাইন লেটার বা পদত্যাগপত্র লিখুন এবং আপনার পদত্যাগ জমা দেওয়ার আগে আপনি কি কারনে পদত্যাগ করছেন সেই সকল বিষয় দিয়ে আপনার চিঠিটি শুরু করবেন।
  • আপনার চাকরির শেষ দিন: পদত্যাগপত্র বা রিজাইন লেটার শুধুমাত্র কর্মচারীর চলে যাওয়ার কারন বর্ণনা করে থাকে না। এতে কাজ করার শেষ দিন এবং অন্যান্য কারন সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণও দেওয়া থাকে। এতে করে নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারী উভয়ের জন্য স্থানান্তরকে সহজ হয়।
  • দরকার পড়লে সহায়তা করার প্রস্তাব: অনেক সময়ই পদত্যাগ পত্রগুলিতে দরকার পড়লে সাহায্য করার প্রস্তাব দেয়া হয়। এতে করে কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তা উভয়ই সম্মান এর সাথে আচরন করতে পারেন কর্মচারী তার কর্মস্থান ছেড়ে যেতে পারেন।
  • আপনার প্রশ্ন থাকতে পারে: আপনাকে যদি কোন প্রতিষ্টানে রাখতে হয় তাহলে আপনার সর্বশেষ বেতন বা সুবিধা সম্পর্কে আপনি আপনার চিঠি রিজাইন লেটার বা ইমেলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।
  • আপনার যোগাযোগের তথ্য: আপনার ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য রিজাইন লেটারে অন্তর্ভুক্ত করুন, যাতে কোম্পানির পক্ষে আপনার সাথে যোগাযোগ করা সহজ হয়।
  • আপনার স্বাক্ষর: একটি হার্ড কপি চিঠিতে আপনার টাইপ করা নামের উপরে আপনার লিখিত স্বাক্ষর থাকা উচিত। আপনি যদি একটি ইমেল পাঠান তাহলে শুধু আপনার নাম লিখুন।

যেসব কারণে আপনার রিজাইন লেটার বাতিল হতে পারে

যেসব কারণে আপনার রিজাইন লেটার বাতিল হতে পারে সে সম্পর্কে আগে থেকেই মিমাংসা করে রাখুন। ধরুন আপনি আপনার বর্তমান চাকরি ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন কিন্তু আপনার কাছে প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীর দেনা-পাওনা রয়েছে অথবা আপনি আপনার কাজ মাঝ পথেই বন্ধ করে দিয়েছেন এছাড়াও সঠিকভাবে আপনার কাজ নিয়োগকর্তাকে বুঝিয়ে দেননি শুধুমাত্র রিজাইন লেটার দায়সারা ভাবে দিয়েই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এসকল কারনে আপনার রিজাইন লেটার বাতিল হতে পারে। এছাড়াও রিজাইন লেটার বাতিল হবার আরও কারন হতে পারে যা চাকরির পদ দায়িত্ব বা কোম্পানীর উপর নির্ভর করে থাকে।

রিজাইন লেটার এর নমুনা চাই?

বন্ধুরা কিছু রিজাইন লেটার এর নমুনার ছবি আপনাদের সুবিধার্থে এখানে দিয়ে দিলাম আশা করি রিজাইন লেটার এর নমুনাটি মডিফাই করে আপনার কাজে লাগাতে পারবেন।

চাকরি থেকে অব্যাহতি পত্রের নমুনা

বন্ধুরা কিছু চাকরি থেকে অব্যহতি পত্রের নমুনার ছবি আপনাদের সুবিধার্থে এখানে দিয়ে দিলাম আশা করি অব্যাহতি পত্রের নমুনাটি মডিফাই করে আপনার কাজে লাগাতে পারবেন।

চাকরি রিজাইন লেটার ছবি

রিজাইন লেটার পিডিএফ

বন্ধুরা রিজাইন লেটার পিডিএফ ভার্সন এখানে দিয়ে দিলাম আশা করি আপনারা আপনাদের রিজাইন লেটার ঠিকভাবে লিখতে পারবেন।

ইংরেজিতে রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম

ইংরেজিতে রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম হলো প্রথমে আপনার অ্যাড্রেস দিবেন তারপর সম্মানসূচক বাক্য দিয়ে শুরু করবেন। উপরে পুরো নিয়ম দেখানো হয়েছে তাই এখানে তা দিলাম না।

বাংলায় রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম

বাংলায় রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম হলো প্রথমে আপনার ঠিকানা দিবেন তারপর সম্মানসূচক বাক্য দিয়ে শুরু করবেন। উপরে পুরো নিয়ম দেখানো হয়েছে তাই এখানে তা দিলাম না।

রিজাইন লেটার কোন ভাষায় লিখবেন?

রিজান লেটার কোন ভাষায় দিবেন তা নির্ভর করে আপনার কোম্পানীল উপর এবং আপনার পজিশন এর উপর। বিশেষ করে কোন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানী হলে অবশ্যই রিজাইন লেটার ইংরেজীতে দিবেন।

রিজাইন লেটার বাংলা ও ইংলিশ পিডিএফ

https://drive.google.com/file/d/176VV43XTMLEv1BKYvUtmX2AhhvRtKFpr/view?usp=sharing

 

ঔষধ কোম্পানির রিজাইন লেটার

সকল কোম্পানীর রিজাইন লেটার একরকমই হয় তাই ঔষধ কোম্পানির রিজাইন লেটার ও একই রকম হবে। কিভাবে রিজাইন লেটার লিখতে হবে তা উপরে দেওয়া হয়েছে তা ফলো করুন।

রিজাইন লেটার বাংলা ফরমেট

রিজাইন লেটার বাংলা ফরমেট উপরে দিয়ে দিয়েছি তাই সেটা দেখে বাংলায় রিজাইন লেটার লিখতে পারবেন।

প্রাণ রিজাইন লেটার

সকল কোম্পানীর রিজাইন লেটার একরকমই হয় তাই প্রান রিজাইন লেটার ও একই রকম হবে। কিভাবে রিজাইন লেটার লিখতে হবে তা উপরে দেওয়া হয়েছে তা ফলো করুন।

গার্মেন্টস চাকরি রিজাইন লেটার

সকল কোম্পানীর রিজাইন লেটার একরকমই হয় তাই গার্মেন্টস চাকরি রিজাইন লেটার ও একই রকম হবে। কিভাবে রিজাইন লেটার লিখতে হবে তা উপরে দেওয়া হয়েছে তা ফলো করুন।

বাংলা ও ইংরেজীতে চাকরির রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম নমুনাসহ আপনাদের জন্য দিয়ে দিলাম। বন্ধুরা লেখাটি ভালো লাগলে এবং আপনার কাজে লাগলে আমাদের অবশ্যই জানাবেন কিন্তু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *